Blog, Memoir

ফরাসি বিশ্বকাপ ’৯৮: ফুটবল দেখার শুরু

আমার অতি প্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন আর্জেন্তিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। ভক্তরা ভালোবেসে ডাকত ‘বাতিগোল’। মাথায় একরাশ সোনালী চুলের মালিক ‘বাতিগোল’ প্রথম দর্শনেই মন জয় করেছিলেন। ১৯৯৮ এর ফুটবল আমি মনে রাখব দুই প্রবাদ-প্রতীম ব্যাক্তিত্বের জন্য- জিনেদিন জিদান এবং প্রিয় বাতিস্তুতা। ফুটবল দেখা শুরু করি এই ফরাসি বিশ্বকাপ থেকেই। ফুটবল বিশ্বের চিরাচরিত দ্বন্দ্ব গুলোর সাথে পরিচিত ছিলাম না মোটেও, খেলা বুঝতামও না তেমন, শুধু ‘গোল’ ছাড়া! যদিও ২০০২ কোরিয়া জাপান বিশ্বকাপে আমার এক ফুটবল পাগল কাকুর নিত্যসঙ্গ আমায় “হলুদ জার্সি”-র ফ্যান করে তোলে, ’৯৮ এর বিশ্বকাপ ‘ফ্যানাটিক’ ব্যাপার স্যাপার গুলো বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েই ছিল, ভালো লাগত ফ্রান্সকে (যেহেতু আয়োজক দেশ), ক্রোয়েশিয়া মন কেড়েছিল ডাভর সুকেরের পায়ের জাদুতে। ১৯৯৮, সেই সময় চলছে ব্রাজিলের সোনার সময়। মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রিভাল্ডো, রোনাল্ডো আরও কতকে! এই ভালোবাসাটা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেল।

এই সময় একটা ঘটনা ঘটল, সাদা কালো আনন্দবাজারে লাগল রঙের ছোঁয়া। প্রচ্ছদ আর খেলার পাতা দুটো হয়ে গেল রঙিন। মনেও লাগল ফুটবলের রং। একটা ছবি মনে আছে- ইন্টার মিলানের জার্সি গায়ে গোল করছেন রোনাল্ডো, সবুজ গালিচার মত মাঠ। তখনও বিশ্বকাপ শুরু হয়নি। সবার নজর প্রাক্ বিশ্বকাপ ম্যাচ গুলোর দিকে, তারকাদের দিকে, তা সে ক্লাব টুর্ণামেন্ট হোক বা আন্তর্জাতিক ফ্রেণ্ডলি। প্রেমে পড়ে গেলাম ফুটবলের! এমনই নেশা, স্যাঁ দেনির মাঠে জিদান বাহিনীর জেতা রূপকথার ফাইনাল রাত জেগে দেখলাম একা একা। ছবিতে চিনলাম ডেনিস বার্গক্যাম্প, অ্যালান শিয়েরার, ঝাঁকড়া চুলের ভালদারামা আরও কত তারকাকে। ১৯৯৪ এর সংস্করণের সময় আমার কাছে অত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না এই প্রতিযোগিতা, বুঝতামই না! এখন মনে হয় ইশ্ যদি তখনও বুঝতে পারতাম, কত ভাল ভাল খেলা মিস হয়ে গেল। ১৯৯৮ এর আনন্দবাজারের সাথে দিয়েছিল ছোট্ট একটা বুকলেট, সামনে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, নিচে ক্যাপশন- “১টি কাপ ৩২টি দল”, ফ্রি দিয়েছিল পেপারের সাথে। ওটা ছিল দল গুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। এখন মনে হয় কোথায় গেল দিন গুলো। দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি এসে বসতাম কাঁচি নিয়ে, রঙিন ছবি গুলো বসে বসে কাটতাম আর জমাতাম, খুঁজলে হয়ত এখনো পাওয়া যাবে ওগুলো। এই কাগজ কাটার নেশা সেই যে ধরল পরে ফুটবল, ক্রিকেট আর কিছুই কাঁচির ধ্বংসলীলার হাত থেকে নিরীহ কাগজদের বাঁচাতে পারে নি। কাগজ বিক্রির সময় বাবা এই কুকর্ম গুলো আবিষ্কার করত, কাগজ গুলোর অবস্থা দেখে নিজেরই খারাপ লাগত, মনে হত যেন রাবণের হাতে নিপীড়িত দেবী সীতা বা কৌরব সভাকক্ষে লাঞ্ছিতা দ্রৌপদী! (নারীবাদীরা মার্জনা করবেন উপমাটির জন্য, আমি মনে করি এঁদের সাথে অন্যায় হয়েছিল।)

ওই বইটায় শ্রদ্ধেয় অমল দত্তের লেখা একটা লেখা খুব মনে ধরেছিল, শিরোনাম ছিল খুব সম্ভত “কি ভাবে দেখবেন বিশ্বকাপ”- ওই লেখাটা এখনো মনে পড়ে, টিভিতে ফুটবল দেখার সময় কি কি বিষয় খেয়াল করলে দেখায় একটা আলাদা মাত্রা আসবে, সেটা বেশ বৈঠকি ভঙ্গীতে লিখেছিলেন ময়দানে “ডায়মণ্ড সিস্টেমের জনক”। বল পাসিং, বল দখলের সময়সীমা, মাঝমাঠের দখল এই সব খুঁটিনাটি বিষয় গুলো অবজার্ভ করলে খেলা দেখার মজা আরও বেড়ে যাবে, একথা লিখেছিলেন উনি। এখনও টিভির সামনে ফুটবল দেখতে বসলে অজান্তেই মনে পড়ে যায় লেখাটা, “ফুটবল দেখা শেখানো” লেখা।

( রাত ১০টা বেজে ১৫ মিনিট, ১১ এপ্রিল, ২০১৭)

This slideshow requires JavaScript.

Advertisements
Blog

My first try of typing :)

কুন্তল কুণ্ডু বালুরঘাটে থাকেন। উনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গতকাল ওনার কম্পিউটারে একটা বাংলা বানান লেখা নিয়ে বিশেষ সমস্যা হচ্ছিল, বানানটি হলর‍্যাম, আপাত দৃস্টিতে বানানটি সাদামাটা মনে হলেও ফন্ট রেণ্ডারিং এর সমস্যায় লিখতে গেলেই বানানটি হয়ে যাচ্ছিল – র্যাম! এই বিদঘুটে শব্দটি ওনার মনে বিশেষ পীড়া উৎপাদন করছিল। অতঃপর ফেসবুকে একটি ফোরামে উনি সমস্যাটি জানান, সহৃদয় কিছু বন্ধু তৎপরতার সাথে সেই সমস্যার সমাধান করে দেয়। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, উনি বানানটি ফিক্সড লে আউটে লিখেছিলেন, তাই জিরো উইথ নন জয়েনার‌ব্যবহার করতে হয়েছে।

৭ এপ্রিল, ২০১৭, রাত ৯টা বেজে ৫০ মিনিট।

( টাইপে হাতেখড়ির প্রথম লেখা 🙂

এবং উবুন্টু লিব্রে অফিস থেকেও )

901px-KB-Bengali-Probhat.svg

Probhat fixed layout

 

Uncategorized

নিভৃতে

তোমার ভেতর তুমি, তুমি শোনো তার কথা;

হারিয়ে যাওয়ার আগে কান পাতো-

হাতছানির সমুদ্রে, প্রবল স্রোতে দিশেহারা;

নিজেকে কি ভাসাতে চাও?

নাকি চোখ রাখবে আকাশে? 

স্বপ্নেরও ভালো মন্দ থাকে-

তাই হারিয়ে যাওয়ার আগে আবারো কান পাতো;

তোমার ভেতর তুমি, তুমি তার কথাই শোনো।।

(5.10.16, বাড়ি)