Memoir

বাবাকে বললাম, “সরে শোও, আজকে ধারে শুব”

সেদিন এমনটাই বলেছিলাম, যতদূর মনে পড়ে। রাত ১২টা পেরিয়ে গেছে, বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেছে, আমি শুধু ভাবছি কী করব? ম্যাচটা দেখব না পরের দিন হাইলাইটস্ দেখে নেব। কারণ দেখার সঙ্গী বাবা অলরেডি শুয়ে পড়েছে, এদিকে ম্যাচটা আর কোনও সাধারণ ম্যাচ না, বিশ্বকাপ ফাইনাল ১৯৯৮!
আমাদের নতুন বাড়িতে আসার তখন মোটে ৩ বছর হয়েছে। তখন সবে ক্লাস ফাইভ। এর আগে ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপ আমার কাছে শুধুই একটা বিশ্বকাপ, বোঝার কিছুই ছিল না, কারণ তখন ক্লাস টু! তাই ১৯৯৮ এর বিশ্বকাপই ছিল আমার বোঝার পক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ। আনন্দবাজার একটা ক্রোড়পত্র দিয়েছিল, সেখানে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের ছবি দেওয়া একটা প্রচ্ছদ ছিল, নিচে লেখা ছিল ৩২ টি দল, একটি কাপ। এই আমার বিশ্বকাপ চেনার শুরু। সেবার আয়োজক দেশ ছিল ফ্রান্স। বইটা পড়ে পড়ে প্রায় মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। আনন্দবাজারও সেবার থেকে সামনে পেছনে রঙিন ছবি দেওয়া শুরু করল, ফলে ফুটবল ভালোবাসা দ্রুত রঙিন হয়ে উঠছিল।
নতুন বাড়িটা লম্বাটে। আমাদের ভাগে চারটে ঘর, এর মধ্যে তিনটে ঘর পাশাপাশি, খানিকটা স্কুলের ক্লাসরুমগুলোর মত, আরেকটা সমকোণে, খানিকটা ইংরেজি L অক্ষরের মত লাগত। ঘরগুলোকে চিহ্নিত করেছিলাম সামনের ঘর, মাঝের ঘর, আর পেছনের ঘর- এই ভাবে। সামনের ঘর, এটায় ছিল টিভি, খেলা দেখতে বা যেকোনও অনুষ্ঠান দেখতে এই ঘরেই আসতে হত। একটা বিছানা ছিল যেখানে বাবা মা শুত। মাঝের ঘরেও একটা বিছানা, সেখানে আমি আর বুনু। সেবারের ম্যাচগুলো যতদূর মনে পড়ে, শুরুই হত রাতের দিকে, ফলে শেষ হতে হতে রাত দেড়টা- দু’টো বেজেই যেত। পুরো টুর্নামেন্টে কয়টা ম্যাচ দেখেছিলাম মনে নেই, বেশি হবে না, তবে নক্‌আউট থেকে খুব ফুটবল ভক্ত হয়ে গেলাম। বাবা দেখত, আমিও পাশে বসে দেখতাম, নিয়মকানুন তেমন বুঝতাম না তখনও।
এমনি এক ম্যাচে চিনলাম লাল- সাদা দাবার ছকের মত জার্সির একটা দেশকে, এক রূপকথার নায়ক, নিজের কৃতিত্বে দেশকে জেতাচ্ছেন- ডাভর সুকের, দেশের নাম ক্রোয়েশিয়া। সেবারই তারা প্রথম বিশ্বকাপ খেলছিল, একথা অনেক পরে জেনেছি। অপরিণত বুদ্ধিতে যা বুঝেছিলাম দেশটা লড়াকু, সহজে ছেড়ে দেয় না লড়াই। সেমিফাইনালে উঠল তারা, দেখা হয়ে গেল ফ্রান্সের সাথে। আমি তখন গঙ্গারামপুরে, মা-এর সাথে একটা বাড়িতে বিয়ের নেমন্তন্নে। মনে আছে বাবা যায় নি। মা-কে তাড়া দিচ্ছিলাম- “তাড়াতাড়ি চলো, খেলা যে শুরু হতে চলল।” মন পড়ে আছে বাড়ির টিভিতে। ফেরার বাসেও ফুটবলের আলোচনা চলছে, ভিড়ে গেলাম। বাড়িতে যখন ঢুকি, নিশ্চিত হলাম, বাবা জেগে আছে, খেলাও সবেমাত্র শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় যা হয়, বসে গেলাম টিভির সামনে, মনে আছে সুকের গোল করল। পুরো ক্রোয়েশিয়া দলে একমাত্র ওকেই চিনি। তবে ম্যাচটা ক্রোয়েশিয়া হেরে গেল। আয়োজকরা ফাইনালে চলে গেল। কেমন যেন একটা মন খারাপ গ্রাস করল সেদিন রাতে।
১২ জুলাই, ১৯৯৮- আনন্দবাজার রঙিন, সামনে পাতায় বিশাল একটা সবুজ মাঠ, একটা দৈত্যাকার বিশ্বকাপ কে যেন রেখে দিয়েছে মাঠের ঠিক মাঝখানে। গ্যালারি ছাপিয়ে দুটো সহাস্য মুখ- ব্রাজিলের রোনাল্ডো, ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান- যেন পরস্পরের দিকে তাকিয়ে মেপে নিচ্ছেন একে অপরকে। একজন দক্ষ শিল্পী, আরেকজন একটা দেশের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। বুঝলাম ম্যাচটা অন্যদিনের থেকে একটু আলাদা, সবার হলটা কী! কাগজে, টিভিতে এত মাতামাতি শুরু, বিশেষজ্ঞরা যে যার মত বিশ্লেষণ, মতামত জানিয়েই চলেছেন সারাদিন ধরে। ঠিক করলাম ম্যাচটা দেখব। রাতে খেতে বসার আগে বিপর্যয়! বাবা জানাল, রাত জেগে খেলা দেখার ফলে পরদিন উঠতে দেরি হচ্ছে, স্কুল, বাজার সব গণ্ডগোল হয়ে যাচ্ছে, অতএব… শুয়ে পড়ব। আমি আতান্তরে, কী করি, একা একা ২ ঘন্টা জেগে খেলা দেখা আমার পক্ষে অসম্ভব, কারণ অনেক- ঘুম পায়, রাতের বেলা বাইরে কেমন যেন সব শব্দ হয় (আমি কিন্তু তখন ‘ছোট’), একা দেখা মানে টিভির সাউন্ড প্রায় বন্ধ করেই দেখতে হবে। এত প্রতিকূলতায় যখন দোনামনা, একটা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আজকে বাবার সাথেই শুই, সাহস সঞ্চয় করতে পারলে মাঝরাতে দেখা যাবে কী হয়। অগত্যা, মা-কে পাঠালাম মাঝের ঘরে, আমি সামনের ঘরে শুয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উল্টাপাল্টা ভাবতে শুরু করলাম।
লাইট বন্ধ করতে হল কিছু পরেই, বাবার অসুবিধে হচ্ছে, আরও সমস্যা, অন্ধকারে জেগে করবটা কী? রাতে দূরের শব্দগুলো খুব ভালো শোনা যায়। শুনতে পেলাম ক্লাবে টিভি চলছে, আরও কিছু চিৎকার কানে এল- মানে? অনেকেই তো জেগে আছে! অতঃপর সেই সাহসটা মনে হয় ফিরে এল, যে কানে কানে এসে বলল, এটা কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনাল, এটা রোজ হবে না, নইলে চার চারটি বছর অপেক্ষা কর‌ো আবার… ঘুম টুম কোথায় যেন দশ গোল খেয়ে গেল, হালকা করে বাবাকে ডজ করে ডিঙিয়ে গেলাম, যাতে ঘুম না ভাঙে। অন্ধকার ঘরে নিঃশব্দে বিছানা থেকে নেমে নির্ভুল ভাবে এগিয়ে গেলাম টিভির দিকে, সুইচটা দিতেই মায়াবী আলোয় ঘর ভরে গেল… দেখি স্যাঁ দেনি জাগছে আমার জন্য।
Advertisements
Blog

বাংলায় ইবুক বানানোর স্বপ্নপূরণ

অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল বাংলায় ইবুক বানাব, অবশেষে গতকাল রাতে শখটি পূর্ণ হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রাক্ মূহুর্তে কিশোর পত্রিকা আনন্দমেলার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ সংখ্যা থেকে বেছে নিয়েছি একটি প্রচ্ছদকাহিনি আমার ইবইটির জন্য, যেটি লিখেছেন সায়ম বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়, বিষয়- রাশিয়া বিশ্বকাপের ১২টি স্টেডিয়ামের নানান তথ্য। আপাতত এই লেখাটিকেই সামান্য পরিমার্জন ও সংক্ষিপ্ত করে পরীক্ষামূলক ভাবে একটা ইবুক বানিয়ে আপনাদের ডাউনলোড লিংকটি দিচ্ছি, যদি আমায় কাজটির ওপর গঠনমূলক কিছু পরামর্শ দেন তাহলে আরও কিছু বই নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছে রইল। প্রদত্ত লিংক থেকে বইটি ডাউনলোড করার পরে গুগল প্লেস্টোর থেকে Prestigio বা যেকোনও EPub Reader অ্যাপ নামিয়ে সেটি থেকে ওপেন করবেন, কমপিউটারে পড়তে চাইলে Calibre ফ্রি সফটওয়্যারটি লাগবে। প্রসঙ্গত বলি, ইবুকটি EPub ফর্ম্যাটে বানানো, প্রচলিত PDF ফর্ম্যাটে নয়। EPub একটি ব্যবহারবান্ধব ইবুক ভার্শন যার সুবিধা হল, এতে সুবিধামত ফন্ট সাইজ কমবেশি করে চোখের অ্যাডজাস্ট মত বই পড়া যাবে, এছাড়া ডিকশনারি সার্চ, বুকমার্কিং ইত্যাদি কাজেও EPub, Mobi এই ফর্ম্যাটগুলো খুব কার্যকর এবং মজাদার। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম। কাজটিতে সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করেছি, যেমন- ডেস্কটপ অপারেটিং ছিল মাঞ্জারো লিনাক্স 17.1.10 (Xfce), লিব্রে অফিস 5, ক্যালিবার ইবুক মেকার। ফন্ট ব্যবহার করেছি- গুগলের নোটো শেরিফ বেঙ্গলি ফন্ট, টাইপিং লেআউট- প্রভাত কীবোর্ড।

Blog

বাংলা ইউনিকোড টাইপিং-এ নতুন সংযোজন- অভ্রয়েড কীবোর্ড

এন্ড্রয়েড ফোনে বাংলা লেখার জন্য একটা অসাধারণ কীবোর্ড হল রিদমিক কীবোর্ড, প্লে স্টোরে এটি সুলভ। দুঃখের বিষয়, ২০১৫ সালের পর থেকে ডেভেলপার শামিম হাসনাত এর দিকে আর নজর দিতে পারছেন না! তাই আর আপডেট হয় নি বাংলা লেখার এই সুন্দর অ্যাপটি। আজকের দিনে মোবাইল সিকিউরিটি যেখানে একটা বড় ইস্যু সেখানে দাঁড়িয়ে বলা যেতেই পারে অ্যাপটি বর্তমানের সাপেক্ষে ভালনারেবল হয়ে উঠতে চলেছে। এছাড়াও অ্যাপটিতে বেশ কিছু বাগ আছে যা ব্যবহারকারী মাত্রই অবগত আছেন।

আমাদের সৌভাগ্য, সম্প্রতি এই অ্যাপটি নিয়ে আবার কাজ শুরু হয়েছে। পুরোনো সোর্স কোডের উপর ভিত্তি করে নতুন ডেভেলপার আদর খান ফিরিয়ে এনেছেন রিদমিক কীবোর্ডকে, তবে নতুন নামে। নতুন ভার্সনটি পরিচিত অভ্রয়েড কীবোর্ড নামে। গুগুল প্লে স্টোরে এটি পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন হল কেন অভ্রয়েড? আমি সাজেস্ট করব এটি কারণ-
১। এটি লাইট ওয়েট
২। এতে রয়েছে জাতীয়, প্রভাত ও অভ্র ফোনেটিক লেআউট
৩। এই পয়েন্টটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যারা বাংলা বানান নিয়ে একটু সচেতন, তাদের ভালো লাগবে, এই কীবোর্ডে বেশ কিছু যুক্তবর্ণ টাইপে কোনও বাগ নেই, যা আমি অন্যান্য বাংলা কীবোর্ডে পেয়েছি (যেমন র‍্যা টাইপ করা একটা পরিচিত বাগ। মায়াবী, ইন্ডিক, গুগুল ইন্ডিক বা অন্যান্যরা কেউ এই বাগ মুক্ত নয়)
৪। আদর ভাই প্রচুর ইমোজি অ্যাড করেছেন এই মোডেড ভার্সনে যা আগের রিদমিকে সীমিত ছিল।
৫। থিমও দিয়েছেন যদিও সেটা আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে অনেকেই কাস্টমাইজেশন করে নিতে ভালোবাসেন।
৬। বাংলা বর্ণমালার সবকটি সক্রিয় বর্ণ এতে রয়েছে (ইন্ডিক কীবোর্ডে ঞ, ৎ পাই নি)
৭। এটা আমরা যারা ভারতীয়, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা তাদের জন্য- এতে ভারতীয় রূপি চিহ্ন সংযুক্ত আছে।
৮। গুগুল ভয়েস কমান্ড কাজ করবে এই ভার্সনে, যা আগের ভার্সনে খুব সম্ভবত করত না।

সবচেয়ে বড় কথা উনি নিয়মিত এটি আপডেট করছেন। ফলে কোনও সমস্যা থাকলে পরের ভার্সনে সেগুলোর সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এর জন্য চাই আমাদের সহযোগিতা। বাংলাদেশে তৈরি কীবোর্ড গুলোর মধ্যে একমাত্র রিদমিককেই আমার ভালো লাগে কারণ এর ব্যবহারযোগ্যতার ব্যাপ্তি। ধুঁকতে থাকা রিদমিক প্রোজেক্টকে আদর ভাই আবার প্রাণ দিয়েছেন, এর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই, এবার আমাদের কাজ এটিকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে ওনাকে উৎসাহ দেওয়া যাতে প্রোজেক্টটি সক্রিয় থাকে। এটিও সম্পূর্ণ বাগ ফ্রি, একথা বলব না, তবে আদর ভাই সেগুলো যতটা সম্ভব কমিয়ে আনছেন।

Avroid Keyboard চাইলে- https://play.google.com/store/apps/details?id=avroid.bangla.keyboard&hl=en_IN

Blog, Memoir

ফরাসি বিশ্বকাপ ’৯৮: ফুটবল দেখার শুরু

আমার অতি প্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন আর্জেন্তিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। ভক্তরা ভালোবেসে ডাকত ‘বাতিগোল’। মাথায় একরাশ সোনালী চুলের মালিক ‘বাতিগোল’ প্রথম দর্শনেই মন জয় করেছিলেন। ১৯৯৮ এর ফুটবল আমি মনে রাখব দুই প্রবাদ-প্রতীম ব্যাক্তিত্বের জন্য- জিনেদিন জিদান এবং প্রিয় বাতিস্তুতা। ফুটবল দেখা শুরু করি এই ফরাসি বিশ্বকাপ থেকেই। ফুটবল বিশ্বের চিরাচরিত দ্বন্দ্ব গুলোর সাথে পরিচিত ছিলাম না মোটেও, খেলা বুঝতামও না তেমন, শুধু ‘গোল’ ছাড়া! যদিও ২০০২ কোরিয়া জাপান বিশ্বকাপে আমার এক ফুটবল পাগল কাকুর নিত্যসঙ্গ আমায় “হলুদ জার্সি”-র ফ্যান করে তোলে, ’৯৮ এর বিশ্বকাপ ‘ফ্যানাটিক’ ব্যাপার স্যাপার গুলো বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েই ছিল, ভালো লাগত ফ্রান্সকে (যেহেতু আয়োজক দেশ), ক্রোয়েশিয়া মন কেড়েছিল ডাভর সুকেরের পায়ের জাদুতে। ১৯৯৮, সেই সময় চলছে ব্রাজিলের সোনার সময়। মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রিভাল্ডো, রোনাল্ডো আরও কতকে! এই ভালোবাসাটা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেল।

এই সময় একটা ঘটনা ঘটল, সাদা কালো আনন্দবাজারে লাগল রঙের ছোঁয়া। প্রচ্ছদ আর খেলার পাতা দুটো হয়ে গেল রঙিন। মনেও লাগল ফুটবলের রং। একটা ছবি মনে আছে- ইন্টার মিলানের জার্সি গায়ে গোল করছেন রোনাল্ডো, সবুজ গালিচার মত মাঠ। তখনও বিশ্বকাপ শুরু হয়নি। সবার নজর প্রাক্ বিশ্বকাপ ম্যাচ গুলোর দিকে, তারকাদের দিকে, তা সে ক্লাব টুর্ণামেন্ট হোক বা আন্তর্জাতিক ফ্রেণ্ডলি। প্রেমে পড়ে গেলাম ফুটবলের! এমনই নেশা, স্যাঁ দেনির মাঠে জিদান বাহিনীর জেতা রূপকথার ফাইনাল রাত জেগে দেখলাম একা একা। ছবিতে চিনলাম ডেনিস বার্গক্যাম্প, অ্যালান শিয়েরার, ঝাঁকড়া চুলের ভালদারামা আরও কত তারকাকে। ১৯৯৪ এর সংস্করণের সময় আমার কাছে অত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না এই প্রতিযোগিতা, বুঝতামই না! এখন মনে হয় ইশ্ যদি তখনও বুঝতে পারতাম, কত ভাল ভাল খেলা মিস হয়ে গেল। ১৯৯৮ এর আনন্দবাজারের সাথে দিয়েছিল ছোট্ট একটা বুকলেট, সামনে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, নিচে ক্যাপশন- “১টি কাপ ৩২টি দল”, ফ্রি দিয়েছিল পেপারের সাথে। ওটা ছিল দল গুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। এখন মনে হয় কোথায় গেল দিন গুলো। দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি এসে বসতাম কাঁচি নিয়ে, রঙিন ছবি গুলো বসে বসে কাটতাম আর জমাতাম, খুঁজলে হয়ত এখনো পাওয়া যাবে ওগুলো। এই কাগজ কাটার নেশা সেই যে ধরল পরে ফুটবল, ক্রিকেট আর কিছুই কাঁচির ধ্বংসলীলার হাত থেকে নিরীহ কাগজদের বাঁচাতে পারে নি। কাগজ বিক্রির সময় বাবা এই কুকর্ম গুলো আবিষ্কার করত, কাগজ গুলোর অবস্থা দেখে নিজেরই খারাপ লাগত, মনে হত যেন রাবণের হাতে নিপীড়িত দেবী সীতা বা কৌরব সভাকক্ষে লাঞ্ছিতা দ্রৌপদী! (নারীবাদীরা মার্জনা করবেন উপমাটির জন্য, আমি মনে করি এঁদের সাথে অন্যায় হয়েছিল।)

ওই বইটায় শ্রদ্ধেয় অমল দত্তের লেখা একটা লেখা খুব মনে ধরেছিল, শিরোনাম ছিল খুব সম্ভত “কি ভাবে দেখবেন বিশ্বকাপ”- ওই লেখাটা এখনো মনে পড়ে, টিভিতে ফুটবল দেখার সময় কি কি বিষয় খেয়াল করলে দেখায় একটা আলাদা মাত্রা আসবে, সেটা বেশ বৈঠকি ভঙ্গীতে লিখেছিলেন ময়দানে “ডায়মণ্ড সিস্টেমের জনক”। বল পাসিং, বল দখলের সময়সীমা, মাঝমাঠের দখল এই সব খুঁটিনাটি বিষয় গুলো অবজার্ভ করলে খেলা দেখার মজা আরও বেড়ে যাবে, একথা লিখেছিলেন উনি। এখনও টিভির সামনে ফুটবল দেখতে বসলে অজান্তেই মনে পড়ে যায় লেখাটা, “ফুটবল দেখা শেখানো” লেখা।

( রাত ১০টা বেজে ১৫ মিনিট, ১১ এপ্রিল, ২০১৭)

This slideshow requires JavaScript.

Blog

My first try of typing :)

কুন্তল কুণ্ডু বালুরঘাটে থাকেন। উনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গতকাল ওনার কম্পিউটারে একটা বাংলা বানান লেখা নিয়ে বিশেষ সমস্যা হচ্ছিল, বানানটি হলর‍্যাম, আপাত দৃস্টিতে বানানটি সাদামাটা মনে হলেও ফন্ট রেণ্ডারিং এর সমস্যায় লিখতে গেলেই বানানটি হয়ে যাচ্ছিল – র্যাম! এই বিদঘুটে শব্দটি ওনার মনে বিশেষ পীড়া উৎপাদন করছিল। অতঃপর ফেসবুকে একটি ফোরামে উনি সমস্যাটি জানান, সহৃদয় কিছু বন্ধু তৎপরতার সাথে সেই সমস্যার সমাধান করে দেয়। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, উনি বানানটি ফিক্সড লে আউটে লিখেছিলেন, তাই জিরো উইথ নন জয়েনার‌ব্যবহার করতে হয়েছে।

৭ এপ্রিল, ২০১৭, রাত ৯টা বেজে ৫০ মিনিট।

( টাইপে হাতেখড়ির প্রথম লেখা 🙂

এবং উবুন্টু লিব্রে অফিস থেকেও )

901px-KB-Bengali-Probhat.svg

Probhat fixed layout

 

Uncategorized

নিভৃতে

তোমার ভেতর তুমি, তুমি শোনো তার কথা;

হারিয়ে যাওয়ার আগে কান পাতো-

হাতছানির সমুদ্রে, প্রবল স্রোতে দিশেহারা;

নিজেকে কি ভাসাতে চাও?

নাকি চোখ রাখবে আকাশে? 

স্বপ্নেরও ভালো মন্দ থাকে-

তাই হারিয়ে যাওয়ার আগে আবারো কান পাতো;

তোমার ভেতর তুমি, তুমি তার কথাই শোনো।।

(5.10.16, বাড়ি)