EndeavourOS- a journey from Linux Mint to Core Arch Linux.

সৌমেন লাগাতার না লেগে থাকলে এন্ডেভারে আসা হত না। মুশকিলটা হয়েছে আমার মত লিনাক্স অপরিপক্কদের জন্য আর্চ লিনাক্স ইন্সটলেশনে হাত দেওয়া খানিকটা ভিনগ্রহে অবতরণের মতই, কমান্ড লাইনের ভয়, ‘যদি কিছু হয়ে যায়’ ধরনের চিন্তা ইত্যাদি এসেই যায়। এই অবস্থায় এন্ডেভার শুধু সাহস যোগায়নি বরং মূল আর্চ লিনাক্সকে অনেক কাছে এনে দিয়েছে, অনেক সহজে। কবিগুরুর ভাষায় বলতে গেলে “তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে”। এখনো অবধি রোলিং ডিস্ট্রো ব্যবহারের পূর্ব অভিজ্ঞতা বলতে মানজারো লিনাক্স ব্যবহার। সেটাও যখন বিভিন্ন লেখার মধ্যে দিয়ে জানতে পারলাম “ঠিক” আর্চ নয় “প্রায়” আর্চ তখন থেকেই একটা মনে কিন্তু কিন্তু চিন্তার ঘুরঘুর শুরু। একসময় বিশেষ কিছু প্রয়োজনে আবার সেফ হোম মিন্টে ফেরা। কিন্তুটা থেকেই গেল, তাহলে কি রোলিং আর্চ আর ব্যবহার করতে পারব না? এই সময় শ্রীমান সৌমেনের রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ। এবং এন্ডেভার ইন্সটল করে ফেলা। এসে বুঝলাম ঠিক যেমনটা চেয়েছিলাম তেমনটাই এই জিনিস। ক্ল্যামেয়ার্স ইন্সটলার আমাদের কথা ভেবেই তৈরি। অন্তত এইটুকু “ভরসা থাকুক” (কবীর সুমনের গানের ভাষায়!) প্যামাক ইন্সটলার এর সাথে ডিফল্ট দেওয়া না থাকায় মানজারোর কথা আর মনেও আসেনি, বরং উৎসাহই বেড়েছে মূল কমান্ড লাইনেই প্যাকেজ ইন্সটলের প্রচেষ্টায়। আর্চ উইকিটা এবার মন খুলে পড়তে পারছি, মানজারো যুগের সেই “কিন্তু-কিন্তু” অস্বস্তিটা আর নেই।

সমস্যাটা আবার এলো অন্য ভাবে! এবার ইমোশনাল ব্যপার-স্যাপার।দুপুরে লিনাক্স মিন্টের প্রজেক্ট লিডার ক্লেমেন্ট বাবুর একটা ব্যাক্তিগত ইমেলে! তিনি মিন্ট প্রজেক্টে ডোনেট করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন আমায়, সাথে মিন্ট টিমের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে জাতীয় পতাকা ও মিন্ট লোগো সহ আমার নামের ব্যাজ- যা ব্যবহার করা যাবে নিজের ব্লগে বা যেকোন জায়গায়।ক্ষণিকের জন্য আবার সেই পুরোনো বেদনা জেগে উঠেছিল, মিন্টের জন্য, ঘরছাড়া হয়েছি যে এন্ডেভারের জন্যই। মিন্টে ডোনেট করার ২ দিনও কাটেনি, আমার বাসা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। সৌমেনের সাথে দুপুরে কথা হচ্ছিল এই ব্যপারেই। অতঃপর একটা মধ্যস্থতায় এলাম। ক্লেম বাবুর সম্মানে এন্ডেভারেই পড়িয়ে দিলাম সিনামন ডেস্কটপের প্রয়োজনীয় পোষাক। মিন্টও থাকল আবার আর্চও থাকল। পারফরম্যান্স? সিনামনটা মনে হচ্ছে মিন্টের চেয়ে এখানেই ভালো চলছে। দেখা যাক… (পুনঃ-পুরো ডেস্কটপটা নিজে সাজালাম, আগামীকাল বিশ্বকর্মা পূজা, নিজেকে বেশ বিশ্বকর্মা ফিল হচ্ছে!) (17.9.19)

1st Donation to Mint Project.
Gift from Linux Mint team.

একটি কলঙ্কিত পরম্পরা

সপ্তডিঙা

সপ্তডিঙা বিশ্বকর্মাপুজোসংখ্যা ১৪২৫* Shoptodina Vol 4 No 3 2018 * ISSN 2395 6054

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়


আনুষ্ঠানিক শিক্ষক দিবস ৫ই সেপ্টেম্বর। অবশ্যই ভারতবর্ষে। অন্য কোনো দেশ এই দিনে এই উদযাপন করেনা। একেক দেশের একেক তারিখ রয়েছে। এমনিতে ইউনেস্কো অক্টোবরের পাঁচ তারিখকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস বলে ঘোষণা করেছে ১৯৯৪ সালে। আমাদের দেশে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের জন্মদিনে এই শিক্ষক দিবস উদযাপন করা শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সাল থেকে। অর্থাৎ যে বছর উনি রাষ্ট্রপতি হলেন। এটা ছিল ওঁর ছাত্রদের পরিকল্পনা। তাঁদের শিক্ষক দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন, এই উপলক্ষটিকে সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত গুরুদক্ষিণা যে আজ গোটা দেশের হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটার পিছনে অবদান স্বয়ং রাধাকৃষ্ণানেরই।

” Instead of celebrating my birthday,
it would be my proud privilege if September 5th is observed as Teachers’ Day.”
নিজের জন্মদিনকে এভাবেই নিজের জীবদ্দশাতেই অমর করে দিয়েছিলেন ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি।
এমনিতে আমাদের দেশে গুরুপ্রণামের অন্য একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দিন ছিল। গুরুপূর্ণিমার দিন,

View original post 2,876 more words

দুটি বিতর্কিত গান: স্বরবিতান ৬৪র ভাষ্য – প্রবন্ধটির লেখক শংকর চট্টোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের আগেই স্বরবিতান প্রথম প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত স্বরবিতানের ৬৬টি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। স্বরবিতান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক প্রকাশনা, কারণ রবীন্দ্রসংগীতের সুররক্ষণের জন্য স্বরবিতানই এখন প্রধান অবলম্বন। বিশেষত আজ সেইসব প্রবাদপ্রতিম আচার্য যাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছে বা তাঁর জীবৎ-কালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগীতভবনে সংগীতের পাঠগ্রহণ করেছেন তাঁরা প্রয়াত, তাই এখন স্বরবিতানই শিল্পী ও শিক্ষকদের প্রধান আশ্রয়। গুরু পরম্পরায় শিক্ষিত শিল্পী ও প্রশিক্ষকদের কাছেও স্বরবিতান স্মৃতিসহায়ক হিসেবে অপরিহার্য, স্বরবিতানের দ্বারা বাহিত হয়েই সুরের সুরধুনী এখন বহমান। এ কথাও সর্বজনবিদিত যে স্বরলিপির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু যোগ্য গুরু যখন হাতের কাছে থাকেন না তখন স্বরলিপিই আমাদের পরমা গতি।

কিন্তু স্বরলিপি যাঁরা প্রকাশ করেন সম্পাদনা করেন তাঁদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে। রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে স্বরবিতান প্রকাশিত হবার পূর্বকাল থেকেই রবীন্দ্রগানের স্বরলিপি নানা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সেই সব সুখ্যাত পত্রপত্রিকাগুলির মধ্যে অথবা কিছু গ্রন্থের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে ব্রহ্মসংগীত স্বরলিপি, শতগান, আনন্দসংগীত পত্রিকা, বীণাবাদিনী, সংগীতবিজ্ঞান প্রবেশিকা ইত্যাদি। এই সব পূর্বপ্রকাশিত স্বরলিপিগুলির পর্যায়ক্রমে স্বরবিতানে অন্তর্ভুক্ত হবে, এইটিই স্বাভাবিক ছিল। কিছুক্ষেত্রে তা যে হয়নি এমন নয়। কিন্তু পূর্বজ স্বরলিপিগুলিকে মর্যাদা না দিয়ে বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি পরবর্তী স্বরলিপিকারদের অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছেন। এমন অনেক দৃষ্টান্তই আমরা খুঁজে পাই। পরবর্তী কালে স্বরবিতানের কোনো কোনো সংস্করণ থেকে পূর্ববর্তী স্বরলিপিকারদের স্বররলিপিগুলি স্বরবিতানের পরিশিষ্টে সংযোজিত হয়েছে। সুরান্তর, পাঠভেদে কিংবা ভিন্ন ছন্দ ও তাল থাকলে তাও সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সবক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি। এমনই দুটি গানের স্বরলিপির বিষয়ই এই নিবন্ধের প্রাথমিক উপজীব্য।

আমাদের প্রথম আলোচ্য বিষয় স্বরবিতান ৬৪। এই খণ্ডটি তার পূর্ববর্তী সব স্বরবিতান থেকে আলাদা। এটি প্রায় একটি গবেষণাধর্মী প্রকাশনা। কারণ রবীন্দ্রনাথের বারোটি গানের স্বরলিপি প্রকাশের মধ্যে এই গ্রন্থ সীমাবদ্ধ নয়। এতে আরও অনেক তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে, যা কস্মিন্‌কালে পূর্বজ কোনো স্বরবিতানে আমরা পাইনি। রবীন্দ্রগ্রন্থস্বত্ব লুপ্ত হবার পর এই গ্রন্থটির প্রথম প্রকাশনা, তাই বোধহয় বিশ্বভারতীর উপাচার্য মহাশয়ের একটি ভূমিকা দিয়ে এই গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ভূমিকাটিতে কয়েকটি তথ্য, কিছু বাক্যের পুনরাবৃত্তি এবং একটি যুগান্তকারী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ভাষাতেই জানাই সে তথ্যটি — “বর্তমান খণ্ডটি প্রকাশের পূর্বে তেষট্টি খণ্ড স্বরবিতান প্রকাশিত হয়েছিল।”—স্বরবিতান ৬৪-র আগে যে স্বরবিতান ৬৩ প্রকাশিত এই দুর্লভ তথ্য আবিষ্কৃত হল তাঁর ভূমিকায়। আমরা কৃতজ্ঞ। উপাচার্য মহাশয়ের ভূমিকাটির পরে রবীন্দ্রনাথের বারোটি গান স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছে। মাত্র একত্রিশ পৃষ্ঠার মধ্যেই এই গানগুলির মুদ্রণ সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু স্বরবিতান ৬৪ ৫১ (+৪) পাতার বই। বাকি কুড়িটি পাতায় কী পাওয়া যাবে? তারই একটি বিবরণ দিই পাঠকের কাছে।

প্রথমেই মুদ্রিত হয়েছে ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ এই গানটির তিনটি স্বরলিপি। প্রথমটির প্রকাশকাল ১৮৯৭-এ (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) বীণাবাদিনীর প্রথম সংখ্যায়, স্বরলিপিকার জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। উল্লেখ্য যে এই স্বরলিপিটি এই প্রথম স্বরবিতানভুক্ত হবার মর্যাদা পেল। দ্বিতীয় স্বরলিপিটি প্রকাশিত হয় স্বরবিতান ৪৫-এ প্রকাশকাল ১৩৬৩ মে (১৯৫৬)। স্বরলিপিকার ইন্দিরাদেবী চৌধুরাণী। স্বরলিপিটি পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত। স্বরবিতান ৪৫-এর পরিশিষ্টে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ-কৃত স্বরলিপিটির কোনো উল্লেখ নেই। জ্যোতিরিন্দ্রকৃত স্বরলিপি শতাধিক বছর ধরে উপেক্ষিত পড়েছিল। স্বরবিতান ৬৪-তে ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ গানটির তৃতীয় স্বরলিপি ভি. বালসারা-কৃত। ১৯৫৬ সালে শ্রীমতী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গানটির যে রেকর্ড করেন তারই স্বরলিপি ভি. বালসারা করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমরা পরে আসছি। খুবই আশ্চর্যের বিষয় ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ গানটির মূলগানের একটি স্বরলিপি এবং দুটি পাঠান্তর এই গ্রন্থে মুদ্রিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ‘এ হরিসুন্দর’ গানটির মূলগানের স্বরলিপি এবং সঙ্গে দুটি পাঠান্তরও আছে। ‘খেলার সাথি বিদায়দ্বার খোলো’ গানটির মূলগানের স্বরলিপির সঙ্গে তার চারটি পাঠান্তর মুদ্রিত হয়েছে। ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে’ গানটিরও মূলগানের একটি স্বরলিপি এবং তিনটি পাঠান্তর প্রকাশিত হয়েছে। একটি পাঠান্তরের স্বরলিপিও সংযোজিত হয়েছে। ‘বুঝি ওই সুদূরে ডাকিল মোরে’র মূলগানের উল্লেখ করা হয়েছে। সাহানা দেবীর গায়ন-অনুসারে স্বরলিপিটি এখানে মুদ্রিত, স্বরলিপিকার প্রফুল্লকুমার দাস। কিন্তু এই গানের রাজেশ্বরী দত্ত-কৃত রেকর্ড অনুসারে আশিস ভট্টাচার্য যে স্বরলিপি করেছিলেন, সেটি এই গ্রন্থে উল্লিখিত হলেও স্থান পায়নি। মন্ত্রগান ‘যদেমি প্রস্ফুরন্নির’ গানটির দুটি স্বরলিপি এখানে মুদ্রিত হয়েছে, হয়তো ‘যদি ঝড়ের মেঘের মতো আমি ধাই’ গানের মূলগান হিসেবে। ‘হিয়া কাঁপিছে সুখে কি দুখে’ গানটির মূল গানটিই শুধু মুদ্রিত হয়েছে। যে মূল কবিতা ভেঙে ‘যারা বিহানবেলায় গান এনেছিল’ সেটিও ছাপা হয়েছে। স্বরবিতানে ৬৪কে শুধু স্বরলিপির বই বলা যাবে না। গবেষণামূলক নেপথ্যচারিতা এই সংকলনের ধর্ম বলা যায়। স্বরবিতানের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এর পূর্বে কোনো স্বরবিতান গ্রন্থে এরকম প্রবণতা দেখা যায়নি। এবার থেকে কি স্বরবিতানের নতন যুগ শুরু হল? এর আগে প্রকাশিত স্বরবিতানগুলির নতুন সংস্করণে কি আমরা এই একই উদ্যম ও অধ্যবসায় দেখতে পাব? স্বরবিতান ৬৪র কলেবর বৃদ্ধির কারণে এই আয়োজন নয় তো? দুর্জনের এই আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করার দায় বিশ্বভারতী সংগীত সমিতিরই। অপ্রকাশিত স্বরলিপি প্রকাশের সুযোগ বেশি না থাকলেও এখনও আছে। অতঃপর সংগীত যথাযথ টীকা, ব্যাখ্যা ও নেপথ্যের তথ্য সহ সেগুলি প্রকাশ করবেন এবং পুরোনো স্বরবিতানগুলি নতুন সংস্করণ প্রকাশের সময় গানগুলি সম্পর্কে সকল তথ্যভাণ্ডার উজাড় করে রবীন্দ্রসংগীত অনুসন্ধিৎসুদের হাতে তুলে দেবেন। স্বরবিতান ৬৪ কে বা কারা সম্পাদনা করেছেন তার স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। তবু ভাবী সম্পাদকের কাছে আমাদের এই প্রত্যাশা রইল।

পূর্বেই ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ গানটির স্বরলিপি বিষয়ে পাঠককে অবগত করেছি। আবার সেই প্রসঙ্গে ফিরে আসি। এই গানটি ১৯৫৬-র অগস্ট মাসে শ্রীমতী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গ্রামাফোন রেকর্ডে প্রথম প্রচারিত হয়। তার আগে এই গানের অন্য একটি স্বরলিপি ওই বছরেই মে মাসে ইন্দিরা দেবীচৌধুরানীর-কৃত পাণ্ডুলিপি থেকে স্বরবিতান ৪৫-এ প্রকাশিত হয়। তার বহু আগে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রণীত আরেকটি স্বরলিপি বীণাবাদিনীর পাতার অন্ধকারে পড়েছিল। এইসব তথ্যই কিছু পূর্বেই পাঠকদের সবিস্তারে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে যেটা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষণীয় সেটা এই যে পূর্ববর্তী দু’দুটি স্বরলিপি (তার মধ্যে একটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে প্রকাশিত) থাকা সত্ত্বেও সে দুটি উপেক্ষা করে শ্রীমতী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় রেকর্ড করায় আমাদের কিঞ্চিৎ বিস্ময় উদ্রিক্ত হয়। স্বরবিতান ৬৪-র শেষভাগে সম্পাদকীয় টীকা থেকে জানা যায় “গানটি প্রথম (রেকর্ডে) প্রচারিত হয় বিষ্ণুপুর ঘরানার রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশিত সুরে।” এই বাক্যটি বিস্ফোরক। কারণ এর বহুদূর বিস্তৃত তাৎপর্য আছে।

এখন রবীন্দ্রসংগীত বলতে আমরা বুঝি সেই গানকে যে গান রবীন্দ্রনাথের রচনা এবং তার সুরও রবীন্দ্রনাথ-কৃত। রবীন্দ্রসংগীতের এই সংজ্ঞার মাপকাঠিতে বিচার করলে শ্রীমতী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ রবীন্দ্রসংগীত আখ্যা পেতে পারে না। এই একই মাপকাঠিতে পঙ্কজকুমার মল্লিক কর্তৃক সুরারোপিত ‘দিনের শেষে ঘুমের দেশে’ গানটিও রবীন্দ্রসংগীত পদবাচ্য নয়। যদিও এই সুর রবীন্দ্রনাথ অনুমোদন করেছিলেন। আরেকটি গানের কথাও এখানে উল্লেখ্য। গানটি হল ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ’, এ গানটিতে সুর দেন শান্তিদেব ঘোষ এবং রেকর্ড করেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। কিন্তু এ গান দুটির কোনোটিই গীতবিতান বা স্বরবিতানে স্থান পায়নি। স্বরবিতান ৬৪তে প্রথম একটি স্বরলিপি প্রচারিত হল যার সুর রবীন্দ্রনাথের দেওয়া নয়। আমাদের বিস্ময় লাগে পূর্ববর্তী দুটি স্বরলিপি থাকা সত্ত্বেও তার কোনোটিকে গ্রহণ না করে আশ্রমকন্যা কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ তৃতীয় একটি সুর অবলম্বনে রেকর্ড করলেন।

১৯৫৬ সালে প্রকাশিত রেকর্ডে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় অপর যে গানটি গেয়েছেন সেটিও বির্তকিত। গানটি হল ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব গো’–মুক্তধারা নাটকের গান। কিন্তু স্বরবিতান ৫২, যেখানে এই নাটকের গানগুলির স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে গানটিতে সুরভেদ পাঠভেদ ও ছন্দান্তর আছে। স্বরবিতান ৫২ প্রকাশিত হয় ১৩৬৪ (ইংরেজি ১৯৫৮) জ্যৈষ্ঠ। এর দুবছর আগেই কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেকর্ডটি প্রকাশিত। স্বরলিপি প্রকাশিত হবার আগেই যে সুরে, তালে ও কথায় এই গানটি রেকর্ড করা হল তার রূপটি নিশ্চয় স্বয়ম্ভূ নয়। এ সম্পর্কে প্রামাণ্য কোনো তথ্য আমরা পাই না। কিন্তু সেকালের শান্তিনিকেতনে রেকর্ডের সুরে গানটি গীত হবার সাক্ষ্য পাওয়া যায়। আশ্চর্যজনকভাবে স্বরবিতান ৫২ অন্য কোনো স্বরলিপি সম্পর্কে নীরব। গত শতকের পাঁচের দশক থেকে আমরা গানটি কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে রেকর্ড হওয়ার আগে এমনকি স্বরবিতান ৫২ প্রকাশিত হবার ঢের আগে যে গানটি মুক্তধারা নাটকে ত্রিমাত্রিক ছন্দে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরের অত্যন্ত কাছাকাছি সুরে পরিবেশিত হয়।

পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে (১৯৫৩) সিগনেট প্রেসের কর্ণধার দিলীপকুমার গুপ্ত (যিনি ডি. কে. নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন) তৎকালীন বিদ্বজ্জনদের নিয়ে ‘হরবোলা’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা গড়ে তোলেন। এঁদের উপদেষ্টা ছিলেন সত্যজিৎ রায়। ‘হরবোলা’ রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’ নাটকটি মঞ্চস্থ করেন। পরিচালনার ভার নেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক কমলকুমার মজুমদার। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কবি ও সংগীতকার জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র। এই নাটকে অংশগ্রহণ করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দীপক মজুমদার প্রভৃতি তরুণ কবি সাহিত্যিকেরা। দীপকের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সুবাদে আমার অনুরোধে জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের কাছ থেকে দীপক ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব গো’ গানটির স্বরলিপি আমাকে এনে দেন। সেই স্বরলিপিটি দীর্ঘ ষাট বছর ধরে আমার কাছে ছিল। আমার মনে হয় এই গানটির স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। তাই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য শ্রী সুজিত কুমার বসুর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর ওঁরই নির্দেশে গত ২৫ জুলাই ২০০৪-এ জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র সূত্রে প্রাপ্ত স্বরলিপিটির জেরক্স কপি সমেত একটি চিঠি পাঠাই। চিঠিতে গানটিকে স্বীকৃতি দিয়ে ওটিকে স্বরবিতানভুক্ত করার প্রার্থনা ছিল। কোনো উত্তর বিশ্বভারতী থেকে অদ্যাবধি পাইনি। হয়তো স্বরলিপিটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। যে হস্তাক্ষরে প্রাপ্ত স্বরলিপিটি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে, সেই হস্তাক্ষর জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের কি না- এ নিয়ে হয়তো সংশয় ছিল। কিন্তু আজ দীপক মুজমদার প্রয়াত। তাই জানার উপায় নেই। স্বরলিপিটি যে জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র-কৃত এ বিষয়ে আমার বিশ্বাস আছে। কারণ এই স্বরলিপিটি কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া রূপটির সঙ্গে হুবহু এক নয়। বিশেষ করে অন্তরার অংশে সুরভেদ লক্ষ্য করা যায়। তার চেয়েও বড়ো কথা, দীপক স্বরলিপিটি আমার হাতে দিয়ে বলেন, ‘নাও তোমার স্বরলিপি। বটুকদার কাছ থেকে আদায় করেছি।’

আজ এই নিবন্ধের শেষে দীপক মজুমদারের কাছ থেকে পাওয়া স্বরলিপিটি মুদ্রিত করতে পেরে ভালো লাগছে। অর্ধশতকের বেশি কাল ধরে অপ্রকাশের অন্ধকারে পড়ে থাকা স্বরলিপি প্রকাশের মুখ দেখল, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র শতবর্ষীয়ান হলেন। সেই উপলক্ষ্যে এটি আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি। গানটি স্বীকৃতি পেলে রবীন্দ্রসংগীতের সংখ্যা একটি বাড়বে। কারণ এটিতে সামান্য হলেও পাঠান্তর আছে। (এই প্রবন্ধটি ‘উৎসারিত আলো রবীন্দ্রনাথের গান’ — শংকর চট্টোপাধ্যায় এই গ্রন্থভুক্ত হয়ে আর কিছুদিনের মধ্যে প্রকাশ পাবে।)
মূল প্রবন্ধটি এই ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত করেছি- https://www.parabaas.com/rabindranath/articles/pSankar_Rabindranath.html

Sankar Chattopadhyay (b. March, 1934) is involved with Rabindrasangeet for over five decades, both as a singer and as an enthusiast. He has written many articles–in Little Magazines mostly. One has been collected in a volume titled “Rabindranath o Baul” (‘Rabindranath and bauls’; রবীন্দ্রনাথ ও বাউল).

Redshift অফলাইনে সক্রিয় রাখার পদ্ধতি

Redshift. লিনাক্সের এই অ্যাপ্লিকেশনটি যারা দীর্ঘ সময় ধরে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের সামনে থাকেন তাদের কাছে একটা খুব প্রয়োজনীয় টুল। রাতের বেলা বিশেষ করে যখন মনিটরের আলো অনেকক্ষণ ধরে চোখে পড়ে স্বাভাবিক ভাবেই চোখের ওপর চাপ পড়ে। এই টুলটি মনিটরের প্রভাকে অনেকটাই নিস্প্রভ করে দেয়, ফলে বেশি সময় মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখ কিছুটা আরাম পায়। এই অ্যাপ্লিকেশনটি আমি লিনাক্স মিন্টে প্রথম ব্যবহার করেছিলাম, ওদের সফটওয়্যার স্টোর থেকে ডাউনলোড করে। একটা সমস্যা হয়েছিল, রাতের বেলা যদি পিসিতে ইন্টারনেট কানেকশন না থাকত তখন এটা কাজ করত না। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানতে পারি, এটা geoclue নামক একটা সিস্টেমে কাজ করে যেটি অনলাইনে আমার লোকেশনটা খুঁজে রেডশিফটকে জানায় এবং রেডশিফট তখন কাজ শুরু করে। অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ খোঁজার কাজ করে এই জিওক্লু, এটা আবার অফলাইনে সে করতে পারে না। তাই একে অফলাইনে কী করে সক্রিয় করা যায় সেই সন্ধানে ছিলাম। নেট খুঁজে খুঁজে আজকে সেটা পেয়েছি। যদি কারও কাজে লাগে তাই এখানে শেয়ার করছি। একটা ফাইল সাথে দিলাম, এটা আপনাকে ডাউনলোড করতে হবে, তারপর হোম ডিরেক্টরিতে গিয়ে show hidden folders করবেন। তারপরে .config ফোল্ডারে গিয়ে এটা পেস্ট করে দিবেন। ফাইলটা তার আগে একটু এডিট করে নিবেন। দেখবেন lat long একটা জায়গা আছে নিচের দিকে, ওখানে কোঅর্ডিনেটস্ লেখা আছে, সেটা আমার লোকেশনের। আপনি আপনার এলাকার কোঅর্ডিনেটস্ নেট থেকে সার্চ করে ওই খানে রিপ্লেস করে দেবেন। সেভ করবেন এবং পিসি একবার রিস্টার্ট করবেন। (লোকেশন পাবেন- https://justgetflux.com/map.html ) রিস্টার্ট করার আগে পিসি নেট থেকে ডিসকানেক্ট করে নিন, এবার দেখুন পিসি অন হওয়ার পরে নেট ছাড়াই রেডশিফট কাজ করছে। আমি বর্তমানে মানজারো xfce তে এটা টেস্ট করলাম। মানজারোতে রেডশিফট দেওয়াই থাকে, না থাকলে Pamac তো আছেই, সেখান থেকে ডাউনলোড করে নিলেই হবে। আর ডেবিয়ান বেসড ডিস্ট্রোগুলোর জন্য Synaptic Package Manager থেকে এটা ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। [প্রসঙ্গত বলে রাখি, মিন্ট সিনামন ইউজাররা সিনামন স্পাইস সাইট থেকে একটা ফোর্কড রেডশিফট ডাউনলোড করতে পারেন, এটা সিনামনের অ্যাপলেট হিসেবে থাকবে, এটাও অফলাইনে কাজ করে, আমি এটাও ব্যবহার করেছি] মূল ফাইল ডাউনলোড লিংক- https://mega.nz/#!eCZlyaZZ!fEpJGSOOwFKzvbIzsjC4wf0GDzmhanBKYSdXRVTksik

Redshift logo

হ্যাপি লিনাক্স ডে!

২৬ মার্চ, ২০১৯: আজকের তারিখটাকে অনায়সে আমার “লিনাক্স দিবস” বলা যায়। দুই বছর আগে আজকের দিনটায় স্থায়ী ভাবে পা রেখেছিলাম মুক্ত সোর্সের দুনিয়াতে। বেশ ভয়ে ভয়ে আবার একটা অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করছিল। সেই আকর্ষণ ছেড়ে আজ অবধি বেরোতে পারলাম না। দুইবছর কেটে গেল, এর মাঝে অসংখ্যবার কমপিউটারের হার্ডডিস্ক মুছেছি, মনে সুখে ইন্সটল করে গেছি বিভিন্ন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলো। এই মোহ বড্ড বিপদ্‌জনক। খানিকটা শপিংমলে গিয়ে যেখানে নানান রকমের পোষাক থাকে, সেখানে দাঁড়িয়ে যেমন মনে হয়, এটা ভালো হবে না কি ওটা, এই দ্বন্দ্ব চলতে থাকে সেখানে দাম মিটিয়ে বাড়ি ফেরার পর অবধিও, লিনাক্স ডিস্ট্রোর ক্ষেত্রেও ডিস্ট্রো থেকে ‘ডিস্ট্রান্তর’ হওয়ার পরেও আমার তেমনই দ্বন্দ্ব থেকেই যায়। পরে জেনেছি লিনাক্স নেটিজেনরা একে “ডিস্ট্রো হপিং” বলেন।

এতকিছু হওয়ার পরেও কিন্তু আমি লিনাক্স ছাড়তে পারিনি। আসলে মন থেকে যাকে একবার ভালোবেসে ফেলি, তাকে সহজে ছাড়তে পারি না, এ আমার দোষ অথবা গুণ। যাকে ধরেছি সে আমাকে ধরতে রাজি কি না এই অপেক্ষায় না থাকাও একটা স্বভাব দোষ। এক্ষেত্রে দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা মারাত্মক। তবে দুবছর তো কাটিয়ে দিলাম, মনে হয় লিনাক্স আমাকে আর ছেড়ে যাবে না।

মার্চ মাস এলেই হাওয়া ওঠে। গনগনে বৈশাখী হাওয়া। এই দিনগুলোতে মাথায় আসে যত উদ্ভট চিন্তা। চেষ্টা করি নিজেকে কোনো কিছুতে ব্যস্ত রাখার। বসন্তের বিদায় আসন্ন। দুপুর বেলাগুলোতে চৈত্রের তীব্র হাওয়াতে মগজের আর্দ্র কোষগুলোও শুকিয়ে ঝরঝরে হয়ে জেগে ওঠে। এরাই ‘কালপ্রিট’। এরকমই একটা সময়ে দুবছর আগে আমার ডেস্কটপের অপারেটিং সিস্টেম বিগড়েছিল। সময়টা কোষ জাগানিয়া না হলে হয়ত চিরাচরিত যেমন করি, তেমনই করতাম। সেটা কী, লেখতেও সংকোচ হয় এখন। সমস্যা ছিল ডেস্কটপের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমটির। অবশ্য তার জন্য দায়ী ও নয়, আমিই ছিলাম। ওর জন্ম ঠিকানা জানা ছিল না। কীভাবে এসেছিল আমার কাছে তাও মনে নেই, আমার হার্ডডিস্কে জায়গা করে দিয়েছিলাম, বিনিময়ে চুক্তি ছিল আমাকে পরিষেবা দেবে। কিন্তু এটা জানা ছিল না, জোরালো যোগাযোগের মাধ্যমের সৌজন্যে মাঝে মাঝেই ওর পুরোনো কথা মনে পড়ে যেত। হাইস্পিড ইন্টারনেট ওকে খোঁজ এনে দিত ওর হারিয়ে যাওয়া অতীতের। মন উতলা হত নিশ্চয়ই, আর মন খারাপ হলেই “ধরা যাক আজ রোববার, কোনও কাজ নেই!” বেঁকে বসত। অগত্যা আবার আমাকে প্রয়োগ করতে হত হাল্লার জাদুকর বরফীর সেই মন ভোলানো ওষুধ, রাজা যা খেয়ে বিস্মৃত হত অতীত।

তো দুপুরের সেই শুকনো হাওয়াতে আমার মগজের কিছু কালপ্রিট কোষ জেগে যাওয়ায় সেবার আর সেই ওষুধ দেওয়া হল না। খোঁজ নিয়ে জানলাম কিছু বিকল্প আছে যা ব্যবহার করে আমি স্বচ্ছন্দে আমার ডেস্কটপের কাজগুলো করতে পারি, এবং এক্ষেত্রে কেউ বাড়ি ফিরতে চেয়ে কাজে বেঁকে বসবে না। এরা প্রত্যেকেই কুলীন এবং অভিজাত।

নেট খুলে চলল পূর্ব প্রস্তুতি। ইন্সটলেশন টিউটোরিয়াল দেখা, ব্রেনওয়াশ করতে পারে এমন কিছু লেখা পড়া, আর পছন্দের ডিস্ট্রো কোনটা হবে সেই সংশয়ের উত্তর খোঁজা… এই ছিল দুবছর আগে আজকের দিনটার ঠিক কয়েকদিন আগের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। অবশেষে ঠিক করলাম, লিনাক্স মিন্ট। শেষ মূহুর্তে জানতে পারলাম, এর জন্ম নাকি আরেকটি অসাধারণ ডিস্ট্রো উবুন্টু থেকেই। এই উবুন্টুর নাম আগেও শোনা ছিল, এই সুযোগে জেনেও নিলাম। এবং ভালো লেগে গেল (তখন এই ভুলটা না করে লিনাক্স মিন্ট ইন্সটল করলে আজ হয়ত ডিস্ট্রো হপারের ছাপ্পাটা গায়ে লাগত না, কারণ তখন আমার পিসির কনফিগারেশন যা ছিল তা উবুন্টুর মেইন সংস্করণ ইউনিটি ডেস্কটপ চালানোর পক্ষে অনেক দূর্বল)। আর এই ভাবে পাইরেটেড উইন্ডোজের একপাশে জায়গা করে নিল উবুন্টু ১৬. ০৪। পরে অবশ্য ফিরে এসেছি লিনাক্স মিন্টে, অনেক ঠেকে, অনেক শিখে আর নিজের সাথে অনেক তর্ক করে।

দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকল আরেকটা সমাপতনে। স্কুলের একটা কমপিউটারে লিনাক্স ইন্সটল করব, এটা একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল অনেকদিনের। সুযোগ এল গতকাল। একটা না ব্যবহার হওয়া মেশিন স্কুলে ছিল, ব্যবহার না হওয়ার কারণ সম্ভবত ওটায় যে অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা ছিল (উইন্ডোজ৭) সেটা ঠিক মতো ইন্সটল না করার ফলে কাজ করত না। বিশেষ অনুমতি নিয়ে বাড়ি নিয়ে এলাম গতকাল সিপিইউটা। আজকে ওটাতে লিনাক্স মিন্ট ইন্সটল করলাম। সাথে অবশ্য রাখলাম আমার সংগ্রহে থাকা একটা উইন্ডোজ ৮. ১, কারণ ডুয়াল বুটের একটা সুবিধা আছে, বিশেষত আমাদের স্কুলের মত প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে ইন্টারনেট এখনো ঠিকমতো কানেকশন হয় না, সেখানে একটা সম্পূর্ণ লিনাক্স ডেস্কটপ রাখা একটু রিস্ক (যদি তার লিনাক্স জ্ঞান আমার মতো হয় তবেই), কারণ সমাধান করতে গেলে নেট কানেকশন দরকার পরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, সেটা না পেলে কাজে সমস্যা হতে পারে, তাই আপদ্‌কালীন খিড়কির মতো উইন্ডোজকে সেকেন্ডারি হিসেবে রাখা।

ঠিক এমনটাই তো করেছিলাম আজকে দিনটায়, এমন চিন্তাই তো করেছিলাম সেদিনও, পুরোপুরি উইন্ডোজকে বিদায় জানাই নি। আজ দুবছর পরেও স্কুলের প্রথম ডুয়াল বুট কমপিউটারটা রেডি করার সময়ও এটাই মনে এল! গতকালও খেয়াল ছিল না, আজকে সেই বিকেল বেলা ইন্সটলেশন শেষ হবার পরে হঠাৎ মনে পড়ে গেল, আজ তারিখ ২৬ মার্চ! হ্যাপি লিনাক্স ডে!

বাবাকে বললাম, “সরে শোও, আজকে ধারে শুব”

সেদিন এমনটাই বলেছিলাম, যতদূর মনে পড়ে। রাত ১২টা পেরিয়ে গেছে, বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেছে, আমি শুধু ভাবছি কী করব? ম্যাচটা দেখব না পরের দিন হাইলাইটস্ দেখে নেব। কারণ দেখার সঙ্গী বাবা অলরেডি শুয়ে পড়েছে, এদিকে ম্যাচটা আর কোনও সাধারণ ম্যাচ না, বিশ্বকাপ ফাইনাল ১৯৯৮!
আমাদের নতুন বাড়িতে আসার তখন মোটে ৩ বছর হয়েছে। তখন সবে ক্লাস ফাইভ। এর আগে ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপ আমার কাছে শুধুই একটা বিশ্বকাপ, বোঝার কিছুই ছিল না, কারণ তখন ক্লাস টু! তাই ১৯৯৮ এর বিশ্বকাপই ছিল আমার বোঝার পক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ। আনন্দবাজার একটা ক্রোড়পত্র দিয়েছিল, সেখানে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের ছবি দেওয়া একটা প্রচ্ছদ ছিল, নিচে লেখা ছিল ৩২ টি দল, একটি কাপ। এই আমার বিশ্বকাপ চেনার শুরু। সেবার আয়োজক দেশ ছিল ফ্রান্স। বইটা পড়ে পড়ে প্রায় মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। আনন্দবাজারও সেবার থেকে সামনে পেছনে রঙিন ছবি দেওয়া শুরু করল, ফলে ফুটবল ভালোবাসা দ্রুত রঙিন হয়ে উঠছিল।
নতুন বাড়িটা লম্বাটে। আমাদের ভাগে চারটে ঘর, এর মধ্যে তিনটে ঘর পাশাপাশি, খানিকটা স্কুলের ক্লাসরুমগুলোর মত, আরেকটা সমকোণে, খানিকটা ইংরেজি L অক্ষরের মত লাগত। ঘরগুলোকে চিহ্নিত করেছিলাম সামনের ঘর, মাঝের ঘর, আর পেছনের ঘর- এই ভাবে। সামনের ঘর, এটায় ছিল টিভি, খেলা দেখতে বা যেকোনও অনুষ্ঠান দেখতে এই ঘরেই আসতে হত। একটা বিছানা ছিল যেখানে বাবা মা শুত। মাঝের ঘরেও একটা বিছানা, সেখানে আমি আর বুনু। সেবারের ম্যাচগুলো যতদূর মনে পড়ে, শুরুই হত রাতের দিকে, ফলে শেষ হতে হতে রাত দেড়টা- দু’টো বেজেই যেত। পুরো টুর্নামেন্টে কয়টা ম্যাচ দেখেছিলাম মনে নেই, বেশি হবে না, তবে নক্‌আউট থেকে খুব ফুটবল ভক্ত হয়ে গেলাম। বাবা দেখত, আমিও পাশে বসে দেখতাম, নিয়মকানুন তেমন বুঝতাম না তখনও।
এমনি এক ম্যাচে চিনলাম লাল- সাদা দাবার ছকের মত জার্সির একটা দেশকে, এক রূপকথার নায়ক, নিজের কৃতিত্বে দেশকে জেতাচ্ছেন- ডাভর সুকের, দেশের নাম ক্রোয়েশিয়া। সেবারই তারা প্রথম বিশ্বকাপ খেলছিল, একথা অনেক পরে জেনেছি। অপরিণত বুদ্ধিতে যা বুঝেছিলাম দেশটা লড়াকু, সহজে ছেড়ে দেয় না লড়াই। সেমিফাইনালে উঠল তারা, দেখা হয়ে গেল ফ্রান্সের সাথে। আমি তখন গঙ্গারামপুরে, মা-এর সাথে একটা বাড়িতে বিয়ের নেমন্তন্নে। মনে আছে বাবা যায় নি। মা-কে তাড়া দিচ্ছিলাম- “তাড়াতাড়ি চলো, খেলা যে শুরু হতে চলল।” মন পড়ে আছে বাড়ির টিভিতে। ফেরার বাসেও ফুটবলের আলোচনা চলছে, ভিড়ে গেলাম। বাড়িতে যখন ঢুকি, নিশ্চিত হলাম, বাবা জেগে আছে, খেলাও সবেমাত্র শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় যা হয়, বসে গেলাম টিভির সামনে, মনে আছে সুকের গোল করল। পুরো ক্রোয়েশিয়া দলে একমাত্র ওকেই চিনি। তবে ম্যাচটা ক্রোয়েশিয়া হেরে গেল। আয়োজকরা ফাইনালে চলে গেল। কেমন যেন একটা মন খারাপ গ্রাস করল সেদিন রাতে।
১২ জুলাই, ১৯৯৮- আনন্দবাজার রঙিন, সামনে পাতায় বিশাল একটা সবুজ মাঠ, একটা দৈত্যাকার বিশ্বকাপ কে যেন রেখে দিয়েছে মাঠের ঠিক মাঝখানে। গ্যালারি ছাপিয়ে দুটো সহাস্য মুখ- ব্রাজিলের রোনাল্ডো, ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান- যেন পরস্পরের দিকে তাকিয়ে মেপে নিচ্ছেন একে অপরকে। একজন দক্ষ শিল্পী, আরেকজন একটা দেশের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। বুঝলাম ম্যাচটা অন্যদিনের থেকে একটু আলাদা, সবার হলটা কী! কাগজে, টিভিতে এত মাতামাতি শুরু, বিশেষজ্ঞরা যে যার মত বিশ্লেষণ, মতামত জানিয়েই চলেছেন সারাদিন ধরে। ঠিক করলাম ম্যাচটা দেখব। রাতে খেতে বসার আগে বিপর্যয়! বাবা জানাল, রাত জেগে খেলা দেখার ফলে পরদিন উঠতে দেরি হচ্ছে, স্কুল, বাজার সব গণ্ডগোল হয়ে যাচ্ছে, অতএব… শুয়ে পড়ব। আমি আতান্তরে, কী করি, একা একা ২ ঘন্টা জেগে খেলা দেখা আমার পক্ষে অসম্ভব, কারণ অনেক- ঘুম পায়, রাতের বেলা বাইরে কেমন যেন সব শব্দ হয় (আমি কিন্তু তখন ‘ছোট’), একা দেখা মানে টিভির সাউন্ড প্রায় বন্ধ করেই দেখতে হবে। এত প্রতিকূলতায় যখন দোনামনা, একটা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আজকে বাবার সাথেই শুই, সাহস সঞ্চয় করতে পারলে মাঝরাতে দেখা যাবে কী হয়। অগত্যা, মা-কে পাঠালাম মাঝের ঘরে, আমি সামনের ঘরে শুয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উল্টাপাল্টা ভাবতে শুরু করলাম।
লাইট বন্ধ করতে হল কিছু পরেই, বাবার অসুবিধে হচ্ছে, আরও সমস্যা, অন্ধকারে জেগে করবটা কী? রাতে দূরের শব্দগুলো খুব ভালো শোনা যায়। শুনতে পেলাম ক্লাবে টিভি চলছে, আরও কিছু চিৎকার কানে এল- মানে? অনেকেই তো জেগে আছে! অতঃপর সেই সাহসটা মনে হয় ফিরে এল, যে কানে কানে এসে বলল, এটা কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনাল, এটা রোজ হবে না, নইলে চার চারটি বছর অপেক্ষা কর‌ো আবার… ঘুম টুম কোথায় যেন দশ গোল খেয়ে গেল, হালকা করে বাবাকে ডজ করে ডিঙিয়ে গেলাম, যাতে ঘুম না ভাঙে। অন্ধকার ঘরে নিঃশব্দে বিছানা থেকে নেমে নির্ভুল ভাবে এগিয়ে গেলাম টিভির দিকে, সুইচটা দিতেই মায়াবী আলোয় ঘর ভরে গেল… দেখি স্যাঁ দেনি জাগছে আমার জন্য।

বাংলায় ইবুক বানানোর স্বপ্নপূরণ

অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল বাংলায় ইবুক বানাব, অবশেষে গতকাল রাতে শখটি পূর্ণ হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রাক্ মূহুর্তে কিশোর পত্রিকা আনন্দমেলার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ সংখ্যা থেকে বেছে নিয়েছি একটি প্রচ্ছদকাহিনি আমার ইবইটির জন্য, যেটি লিখেছেন সায়ম বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়, বিষয়- রাশিয়া বিশ্বকাপের ১২টি স্টেডিয়ামের নানান তথ্য। আপাতত এই লেখাটিকেই সামান্য পরিমার্জন ও সংক্ষিপ্ত করে পরীক্ষামূলক ভাবে একটা ইবুক বানিয়ে আপনাদের ডাউনলোড লিংকটি দিচ্ছি, যদি আমায় কাজটির ওপর গঠনমূলক কিছু পরামর্শ দেন তাহলে আরও কিছু বই নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছে রইল। প্রদত্ত লিংক থেকে বইটি ডাউনলোড করার পরে গুগল প্লেস্টোর থেকে Prestigio বা যেকোনও EPub Reader অ্যাপ নামিয়ে সেটি থেকে ওপেন করবেন, কমপিউটারে পড়তে চাইলে Calibre ফ্রি সফটওয়্যারটি লাগবে। প্রসঙ্গত বলি, ইবুকটি EPub ফর্ম্যাটে বানানো, প্রচলিত PDF ফর্ম্যাটে নয়। EPub একটি ব্যবহারবান্ধব ইবুক ভার্শন যার সুবিধা হল, এতে সুবিধামত ফন্ট সাইজ কমবেশি করে চোখের অ্যাডজাস্ট মত বই পড়া যাবে, এছাড়া ডিকশনারি সার্চ, বুকমার্কিং ইত্যাদি কাজেও EPub, Mobi এই ফর্ম্যাটগুলো খুব কার্যকর এবং মজাদার। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম। কাজটিতে সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করেছি, যেমন- ডেস্কটপ অপারেটিং ছিল মাঞ্জারো লিনাক্স 17.1.10 (Xfce), লিব্রে অফিস 5, ক্যালিবার ইবুক মেকার। ফন্ট ব্যবহার করেছি- গুগলের নোটো শেরিফ বেঙ্গলি ফন্ট, টাইপিং লেআউট- প্রভাত কীবোর্ড।